বাংলাদেশের রফতানি পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সংলাপের প্রস্তুতি ও পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনার অংশ হিসেবে ৬২৬টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১১০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় গতকাল এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, আমদানি পণ্যের শুল্ক কর হার পর্যায়ক্রমে কমানো ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সংলাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১১০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, ৬৫টি পণ্যের আমদানি শুল্ক হ্রাস, ৯টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার ও ৪৪২টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা পণ্যের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সুতা, পারমাণবিক চুল্লি ও এর বিভিন্ন অংশ, বয়লার, হাইড্রোলিক টার্বাইন ও গ্যাস টার্বাইন, দুধ দোহনের যন্ত্র, মিল্কিং মেশিন, দুগ্ধ খামারের যন্ত্র ও কিছু যন্ত্রাংশ, ওয়াইন-সেডার ও ফলের রস উৎপাদনের যন্ত্র, চিনি কলের যন্ত্র, হাঁস-মুরগির ডিম ফোটানোর যন্ত্র (ইনকিউবেটর), ব্রুডার ও এগুলোর যন্ত্রাংশ, স্পিনিং মিল ও বেকারি যন্ত্র এবং এমআরআই যন্ত্র।
এছাড়া যুদ্ধাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বন্দুক, হাওইটজার (এক ধরনের কামান), মর্টার ইত্যাদি। বিদায়ী অর্থবছরে এসব যুদ্ধাস্ত্রের আমদানি শুল্ক রয়েছে ৫ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে এ আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করা হয়েছে।
রকেট লঞ্চার, ফ্লেইম থ্রোয়ারস, গ্রেনেড লাঞ্চার, টর্পেডো টিউব ও এ ধরনের অস্ত্র আমদানির শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। অন্য অস্ত্রের ক্ষেত্রেও আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৬ বিলিয়ন ডলারের মতো। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র এ দেশে যে পরিমাণ পণ্য রফতানি করে, বাংলাদেশ তার চেয়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রফতানি করে দেশটিতে।